দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৪ সালের আন্দোলনকে ‘ফাইনাল যুদ্ধ’ নয়, বরং যুদ্ধের মহড়া বা রিহার্সেল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-এর আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।’
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী।’ তার দাবি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। এই পথ পরিবর্তন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই ওই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সেখানে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলেও পরে বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য অনেক উপাদান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে।’ এ সময় তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, সীমান্তে নিহত ফেলানীসহ বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেন।
ইতিহাস বিকৃতির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় আসার পর সবাই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ করলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সবাই কোনো না কোনোভাবে ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি, কিন্তু বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এমএম/